মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

ইউনিয়নসমূহ

ইউনিয়ন পরিচিতিঃ

(১) ১নং লাখাই ইউনিয়নঃ

আয়তনঃ ১১,৮২৫ একর, জনসংখ্যাঃ ২০,৯৭৭ জন। গ্রামের সংখ্যাঃ ১৫টি। হাওড় ও বিল পরিবেষ্টিত এ ইউনিয়নটির কতগুলো দ্বীপে(স্থানীয় ভাষায় হাটি) জনপদ গড়ে উঠেছে। বর্ষাকালে নৌকাযোগে এক দ্বীপ থেকে আরেকদ্বীপে যাতায়াত করতে হয়। এ ইউনিয়নের গ্রাম সমূহের নাম শিবপুর, সুজনপুর, স্বজনগ্রাম, রুহিতনসী, আমানুল্লাপুর, মামুদপুর, চিকনপুর, মহরমপুর, রাধানগর, সন্তোষপুর, কৃষ্ণপুর, গদাইনগর, কামালপুর, লালচানপুর ও সিতারামপুর। এখানে একটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র ও এলএসডি আছে। ব্রাক্ষ্মনবাড়ীয়া এবং কিশোরগঞ্জ জেলার সাথে এ ইউনিয়নের সীমানা আছে। ইউনিয়নের পাশ দিয়ে ধলেশ্বরী, কলকলিয়া ইত্যাদি নদী বহমান। লাখাই উপজেলা যখন সিও ডেভেলপমেন্ট এর অধীনে ছিল অর্থাৎ লাখাই মানোন্নীত থানা হিসেবে প্রতিষ্ঠার পূর্বে লাখাই হেড কোয়াটার হিসেবে ব্যবহৃত হত। লাখাই ইউনিয়নে এখনো টাউনশীপ আছে। সিও ডেভেলপমেন্টের বাড়ী সহ অন্যান্য ভবন সমূহ বর্তমানে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে উপজেলা পরিষদ থেকে ভাড়া প্রদান করা হয়েছে। এ ইউনিয়নে ২টি হাইস্কুল এবং ১২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে। ১টি কিন্ডারগার্টেন আছে, একটি বেসরকারী এতিমখানাও আছে। এ ইউনিয়নের অধিবাসীদের প্রধান জীবিকা কৃষি। পানির ভিতরে খাঁচা বসিয়ে চিংড়ি মাছ ধরে কেউ কেউ জীবিকা নির্বাহ করেন। মৎস্যজীবি ছাড়াও বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, বেল্ট বানানোর কারিগর সহ বিভিন্ন চাকুরীজীবি ও পেশাজীবিও আছেন। এ ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যানের নাম জনাব সিরাজুল ইসলাম। শামাবাবুর জমিদার বাড়ী, আনন্দ বাজার পত্রিকার মালিকের বাড়ী এ ইউনিয়নের দর্শনীয় স্থান।

 

(২) ২নং মোড়াকরি ইউনিয়নঃ

আয়তনঃ ৪,২৬০ একর। জনসংখ্যাঃ ১৮,৩৮৩ জন। গ্রামের সংখ্যা-৭। গ্রামসমূহের নাম-মোড়াকরি, ফুলবাড়ীয়া, জিরুন্ডা, মানপুর, কাসিমপুর, সুবিদপুর, লক্ষীপুর। বা্রক্ষ্মনবাড়ীয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার ফান্দাউক বাজার সংলগ্ন ইউনিয়নটি মিষ্টি ও রসমলাইর জন্য বিখ্যাত। এ ইউনিয়নেও মানুষের প্রধান পেশা কৃষি, মৎস্য ও ক্ষুদ্র ব্যবসা। এ ইউনিয়নে ১টি উচ্চ বিদ্যা এবং ১০ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১টি কিন্ডারগার্টেন আছে। হিন্দু অধ্যুষিত এ ইউনিয়নে কয়েকটি হিন্দু মন্দির বা আখড়া আছে। ইউনিয়নের পাশে মনিখাই খাল, কলকলিয়া নদী সহ বড় বড় জলমহাল অবস্থিত। এ ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যানের নাম জনাব লিয়াকত আলী। এখানে একটি আলীম মাদ্রাসা আছে।

 

(৩) ৩নং মুড়িয়াউক ইউনিয়নঃ

লাখাইর বর্তমান উপজেলা পরিষদের সম্মুখভাগে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠের পরে যে জনপদটি দেখা যায় তার নাম মুড়িয়াউক। উপজেলা পরিষদের দৃষ্টি সীমার মধ্যে এবং অত্যন্ত নিকটে এ ইউনিয়নের আয়তনঃ৪৭০৪ একর। জনসংখ্যাঃ ১৭৭৬২ জন। গ্রামের সংখ্যাঃ ৯। গ্রামসমূহের নাম সাতাউক, লখনাউক, ধর্মপুর, মশাদিয়া, মুড়িয়াউক, কাসিমপুর, তেঘরিয়া, সুনেশ্বর, মৌবাড়ী। এ ইউনিয়নের সাথে নাসিরনগরের সীমানা আছে। এ ইউনিয়নে একটি উচ্চ বিদ্যালয়, ১৩ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে। এছাড়া বেশ কয়েকটি কওমী মাদ্রাসা আছে। এ অঞ্চলের সাতাউক গ্রামের অনেক মানুষ গ্রিস এবং ইতালিতে অবস্থান করেন। এ ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যানের নাম জনাব নুরুজ্জামান মোল্লা। এ ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষ ঢাকায় বিভিন্ন হোটেল ব্যবসায় এবং অন্যান্য কাজে নিয়োজিত। এ ইউনিয়নে ষ্টেডিয়ামের জন্য প্রস্তাবিত একটি বড় মাঠ আছে। চেয়ারম্যানের নাম জনাব নূরুজ্জামান মোল্লা।

 

(৪) ৪নং বামৈ ইউনিয়নঃ

লাখাই উপজেলা পরিষদ এ ইউনিয়নেই অবস্থিত। আয়তনঃ ৭,১১৩ একর, জনসংখ্যাঃ ১৮৬৯৬ জন, গ্রামের সংখ্যাঃ ৪ । গ্রামসমূহের নাম বামৈ, কাটিহারা, ভাদিকারা, নোয়াগাঁও। এ ইউনিয়নে উপজেলা পরিষদ ছাড়াও লাখাই থানা, হাসপাতাল, ডিজিটাল টেলিফোন এক্সচেঞ্জ, পোষ্ট অফিস, সোনালী ব্যাংক, কৃষি ব্যাংক, ব্র্যাক সহ বিভিন্ন এনজিও অফিস, একটি কলেজ এবং অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে। কৃষি, মৎস্য ছাড়া ও এ অঞ্চলের অনেক মানুষ ঢাকা ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলে হোটেল ব্যবসা সহ বিভিন্ন চাকুরীতে কর্মরত আছেন। এ ইউনিয়নে ২টি উচ্চ বিদ্যালয়, ৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বেশ কয়েকটি কওমী মাদ্রাসা এবং কয়েকটি কিন্ডারগার্টেন আছে। বামৈ ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যানের নাম জনাব মাহফুজুল আলম মাহফুজ।

 

(৫) ৫ নং করাব ইউনিয়নঃ

লাখাই-হবিগঞ্জ সড়কের পাশে এ ইউনিয়নটি লাখাই উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে উচু ভূমি, আয়তনঃ ৬৯৪২ একর। জনসংখ্যাঃ ১৬০০৫ জন। গ্রামের সংখ্যাঃ৯টি। গ্রাম সমূহের নাম করাব, সিংহগ্রাম, মনতৈল, গুনিপুর, আগাপুর, হরিণাকোনা, হোসেনপুর, রাঢ়িশাল। গুনীপুর, আগাপুর ও হরিনাকোনা ব্যতীত এ ইউনিয়নের সকল গ্রামে সড়ক যোগাযোগ আছে। এ ইউনিয়নের গুনীপুর গ্রামের পাশে নাসিরনগর উপজেলার ধরমন্ডল নামক গ্রাম অবস্থিত। এছাড়া মাধবপুর উপজেলার সীমানাও আছে। এ ইউনিয়নে একটি উচ্চ বিদ্যালয়, ১২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১টি দাখিল মাদ্রাসা আছে। এছাড়া কয়েকটি কওমী, ফোরকানিয়া মাদ্রাসা আছে। এ ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যানের নাম জনাব মুশফিউল আলম আজাদ।

 

(৬) ৬নং বুল্লা ইউনিয়নঃ

এ ইউনিয়নের নতুন ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটি লাখাই হবিগঞ্জ সড়কের পাশে হলেও এ ইউনিয়নের অধিকাংশ অঞ্চল হাওড় বেষ্টিত ভাটি অঞ্চলে। আয়তনঃ ১২,১৬৮ একর। জনসংখ্যাঃ ১৮,৪৯৬ জন। গ্রামের সংখ্যাঃ ২২টি। এ ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি গ্রাম যার অধিকাংশই দ্বীপ বা হাটির মত। গ্রামসমূহের নাম: পূর্ব বুল্লা, পশ্চিম বুল্লা, গোপালপুর, নিদানপুর, ভরপূর্ণী, ভবানীপুর, চান্দপুর, চরগাঁও, হেলারকান্দি, মাদনা, বেগুনাই, কাঠাইয়া, ফরিদপুর, মুকসুদপুর, মীরপুর, পূর্নীবাড়ী, বলাকান্দি, গোয়াকাড়া, ভূমাপুর, গংগানগর, শালদীঘা। নদী, হাওড়, হালট, ফসলের জমি সমৃদ্ধ এ ইউনিয়নের সাবিক যোগাযোগ বর্ষা মওসুমেই সুবিধাজনক। বৎসরের কোন কোন সময়ে কোন কোন গ্রামে নৌকা চলে না, অল্প পানি থাকার কারনে হাঁটাও কষ্টকর। এ ইউনিয়নে একটি নৌ পুলিশ ফাড়ি, দুইটি বাজার, পশু সম্পদ অফিসের সাব সেন্টার সহ জনতা ও কৃষি ব্যাংকের শাখা আছে। এ ইউনিয়নে ২টি উচ্চ বিদ্যালয় (১টি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়), ১৯ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং কয়েকটি মাদ্রাসা আছে। এ ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যানের নাম জনাব শেখ মোক্তার হোসেন বেনু।