মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

উপজেলার ঐতিহ্য

উপজেলার ঐতিহ্য

 

স্থানীয় জনসাধারণের পেশাঃ

এ উপজেলার অধিকাংশ মানুষের পেশা কৃষি । বর্ষা মৌসুমে এদের অনেকেই মৎস্য শিকারে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কৃষির পরেই এ অঞ্চলের মানুষের প্রধান পেশা মাছ ধরা । লাখাই উপজেলার বিপুল সংখ্যক মানুষ ঢাকা, সিলেট, চট্রগ্রাম সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হোটেল ব্যবসা ও শ্রমিকের কাজ করেন । ঢাকা শহরের অধিকাংশ হোটেলে লাখাই উপজেলার শ্রমিকেরা কাজ করে । ঢাকায় অনেক হোটেলও আছে । কেউ কেউ বেল্ট বানিয়ায়ে ঢাকায় বিক্রি করে । বিভিন্ন জেলায় মাটি কাটার জন্যও অনেকে চলে যায় । ঢাকায় কেউ কেউ পুরাতন জিনিষ পত্র, লোহা লক্কর ফেরী করে বেড়ান । এ পেশাকে এ অঞ্চলে বলা হয় ভাংগাড়ির ব্যবসা । বিদেশে বিশেষত গ্রিস, ইতালি, ফ্রান্স, মধ্যপ্রাচ্য, ইংল্যান্ড এসব দেশেও অনেকে কাজ করেন । গ্রিসে বেশী সংখ্যক মানুষ থাকার কারণে এ উপজেলার একটি গ্রামকে গ্রিস গ্রামও বলা হয় । সরকারী চাকুরীজীবির সংখ্যা খুব কম যার অধিকাংশই সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত । বিসিএস(প্রশাসন) ক্যাডারে ৪-৫ জন কর্মকর্তা বর্তমানে কর্মরত আছেন । এছাড়া সামরিক বাহিনীতে কয়েকজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা রয়েছেন যাদের জন্মস্থান এ উপজেলায় ।

 

প্রধান ফসলঃ

এ উপজেলার প্রধান ফসল ধান । ধানের মধ্যে ইরি, বোর, আমন, বিন্নি ধান, পশু শাইল, সমুদ্র ফেনা ইত্যাদির চাষ হয় । এছাড়া গোল আলু, পাট, বাদাম, খিরা, ভুট্টা, মরিচ, টমেটো, পেঁয়াজ, রসুন, মূলা, ধরিয়া, মুসর, গম ফুলকপি, কাধাঁকপি, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, করলা, ঢেঁড়শ, নানা জাতের শাক এ সবেরও চাষ করা হয় ।

বণ্যপ্রাণী, পাখিঃ

লাখাই উপজেলা পরিষদটি বর্তমানে যে স্থানে অবস্থিত, এককালে সেখানে জঙ্গল ছিল এবং কাকে মেছো বাঘ বাস করত মর্মে স্থানীয় ব্যক্তিদের মধ্যে গল্প প্রচলিত আছে । সাপের স্বর্গরাজ্য ছিল বলেও জানা যায় । বর্তমানে এ উপজেলায় কোন বন নেই এবং বাঘেরও অস্তিত্ব নেই । কিছু সাপ অবশিষ্ট আছে । সচরাচর যে সকল বণ্যপ্রাণী চোখে পড়ে সেগুলি হল বন বিড়াল, বেজী, শিয়াল, সাপ ইত্যাদি । তবে পাখি দেখা যায় নানা জাতের । শালিক, দোয়েল, ফিঙ্গে, চড়ুই, টুনটুনি, দাঁড়কাক, কাক, বাবুই, পেঁচা, লাল ডানার চিল, ঈগল, সাদা বক, কানি বক, ওয়াক, কয়েক প্রকারের ঘুঘু, হলুদ পাখি, মাছরাঙ্গা, কমলা বুক টুনটুনি, নানা জাতের ছোট পাখি, নীল পিঠের ছোট পাখি, টিয়া, চন্দনা, বাদুড়, বুলবুলি, কাঠ ঠোকরা, বউ কথা কও, মুনিয়া, কোকিল সহ নাম না জানা অনেক ছোট পাখি ।

 

 

বৃক্ষ, বনজ সম্পদঃ

লাখাই উপজেলায় কোন বনাঞ্চল নেই । চা বাগান ও নেই । তবে দ্বীপ বেষ্টিত জনপদে বাড়ীর আশে পাশে প্রচুর গাছ গাছালি দেখা যায় । আম, জাম, কাঠাল, পেয়ারা, নারকেল, সুপারি, খেজুর, লেবু, বাতাবি লেবু, রেইনট্রি, করই, বাবলা, আকাশমনি, ম্যানজিয়াম, সেগুন, মেহগনি, শিমুল, চালতা, চাপলিশ, নিম, ঘোড়ারিম, ইউক্যালিপটাস, কামরাঙ্গা, কামরুল, হরবরই, বিলম্বি, লিচু, অর্জুন, অশোক, কাঞ্চন, ডেওয়া, লবঙ্গ, তেজপাতা, ডালিম, বকুল, পলাশ, মহুয়া, আমলকি, হরিতকী, বহেরা, উলটকমল, করমচা, কৃষ্ণচূড়া, ঘৃদকুমারী, খ্রিস্টমাসট্রি, লটকন, সহ নানা জাতের বনজ, ফলজ ও ঔষধি গাছ উপজেলা পরিষদ সহ নানা ন্থানে পাওয়া যায় । তালগাছ খুব একটা চোখে পড়ে না ।

মৎস্য সম্পদঃ

সিলেট, সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জের অনেক উপজেলার মত লাখাইও মাছ সম্পদের জন্য বিখ্যাত । বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন জাতের এবং রঙের ছোট মাছের এমন বৈচিত্র বাংলাদেশের অনেক জায়গায় দেখা যায় না । ফলে কৃষির পরেই এ অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষের জীবন ও জীবিকার প্রধান অবলম্বন মাছ । রুই, শোল, বোয়াল, কাতলা, বাইন, চিংড়ি, শিং, মাগুর, কই, টাকী, লাঠিমাছ, গজার, টেংরা, গুলসা, আইর, গুচি, খইলসা, কালাবাউশ, বইচা, পুটি, পুটা (সর পুটি), মকা, কেচকি, চাপিলা, কাইককা, খইয়া, ভেদা, মেনী, বাইল্যা, ঘুইঙ্গা, পাবদা, বাইম, গুতুম, ইচা, বাঘাইর, মলা, আলুনি, ইত্যাদি মাছ সারা বর্ষা মওসুম ধরে পাওয়া যায় । জলমহাল লীজ নিয়ে কিংবা ব্যক্তিগত পুকুরে অনেক ব্যক্তি মৎস্য চাষের সাথে জড়িত আছেন ।

মাছ ধরার সরঞ্জাম, ক্যেশলঃ

কোন খাল বা জলাশয়ের পাড়ে ১০-১২টি বড়শি নিয়ে বসে থাকতে দেখা যায় মহিলাদের । যতদিন পানি থাকে ততদিন এ দৃশ্য চোখে পড়বেই । বড়শি ছাড়াও আর যে সকল সরঞ্জাম মাছ ধরার জন্য ব্যবহৃত হয় তার মধ্যেও আছে ব্যাপক বৈচিত্র । যেমনঃ উইচ (ত্রিকোনাকৃতির ফাঁদ), মাছের চাকা, পোলো, ডুলা, সাকী, ছিটকি জাল, ফাড় জাল, উড়ানী জাল, চেকী জাল, কড়া জাল, মাছ ধরার রিং, চল, কোঁচা, পলা, ফলা ইত্যাদি ।বর্ষার পানি বেশি হলে বোয়াল মাছ ধরার ধুম পড়ে । বড়শির সাথে ব্যাঙ লাগিয়ে সহজেই বড় সাইজের বোয়াল মাছ ধরতে দেখা যায় ।

খাবার দাবার, পুলি পিঠা ইত্যাদিঃ

ভাত এবং মাছ এখানকার প্রধান খাবার । বর্ষা মওসুমে মাছের সাথে লাউ, বেগুন, তেতুল, চালতা এসব মিশিয়ে তরকারী রান্না করা হয় । বর্ষা মৌসুমের শেষ দিকে ছোট মাছের সাথে টক জাতীয় তরকারী, তেতুল, চালতা, ঢাঁটা এসব মিশিয়ে ঝোল তরকারী রান্না করা হয় । মুসলিম জনগোষ্ঠী কোরবানী ঈদে এবং বিভিন্ন সময়ে চাউলের রুটি সেঁকে পরের দিনগুলিতে পানি দিয়ে ভিজিয়ে পূনরায় সেঁকে গরম মাংসের সাথে খাবার প্রচলন আছে । কখনো কখনো আলু ও ডালের সাথে মিশিয়ে খিচুরী রান্না করা হয় । তবে এ খিচুরী থাকে ভেজা, পানি মেশানো । মাংসের সাথে পরিবেশন করা হলে এ খিচুরীর স্বাদ অতুলনীয় ।

হাতকাটা পিঠা, পুলি পিঠা, মালপোয়া, সমশা, ডাল পিঠা, (রুটির ভিতর ডাল দিয়ে তেলে ভাজি করা হয়), পাটি সাপটা, পাপড়া, ছিটা রুটি, বোগনাই (ধানের জ্বালা দিয়ে বানানো হয় , পেলা পিঠা ইত্যাদি বানানো হয় । খই, মুড়ি ও অল্প বিস্তর বানানো হয় ।

সংযুক্তি